শিগগিরই সই হতে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এর চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে। এতে বেশ কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, আবার কিছু বিষয়ে ভিন্নমত রয়ে গেছে।
যেসব বিষয়ে ঐকমত্য
১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন—এই প্রস্তাবে ৩০টি রাজনৈতিক দল একমত।
২. ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে ৩১টি দল ও জোট (বিএনপি-জামায়াতসহ)।
৩. দলীয় অবস্থানের বাইরে ভোট: অর্থবিল ও আস্থা ভোট বাদে সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়ার পক্ষে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিসহ ৩০টি দল।
৪. সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ: কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও ২৯টি দল ও জোট এই প্রস্তাবে একমত।
5. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি: বিএনপি-জামায়াতসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত।
৬. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংশোধন: ৯টি দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকা সত্ত্বেও সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পক্ষে ৩০টি দল একমত।
৭. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: বিএনপি-জামায়াতসহ ৩০টি দল এই ব্যবস্থার পক্ষে।
৮. নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি: জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাবে সব দল একমত (বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ)।
যেসব বিষয়ে ভিন্নমত
১. সংবিধান স্থগিত বা বিলুপ্তি: ২৯টি দল একমত হলেও গণফোরাম, বাংলাদেশ জাসদসহ ৩টি দল ভিন্নমত পোষণ করেছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা: প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান বা সংসদ নেতা হিসেবে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না—এ বিধানে ২৫টি দল একমত হলেও বিএনপিসহ ৫টি দল ও জোট ভিন্নমত জানিয়েছে।



