tanaka

শুটিংয়ে পিছলে পড়ে হাঁটুতে চোট, বসেই ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’ উপস্থাপনা অমিতাভের

শুটিংয়ের সময় পিছলে পড়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। চোট গুরুতর না হলেও হাঁটুর সমস্যার কারণে দাঁড়াতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলে...
প্রচ্ছদআদালতজুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনার রায় সরাসরি দেখবে বিশ্ব

জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনার রায় সরাসরি দেখবে বিশ্ব

চব্বিশের জুলাই গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের রায় ঘোষণা হবে সোমবার (১৭ নভেম্বর)। এ রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে; ফলে গোটা বিশ্ব বিচারপ্রক্রিয়া দেখতে পারবে। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বড় পর্দায়ও দেখানো হবে বিচারকাজ।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের রায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছে জাতি। আন্তর্জাতিক মহলের নজরও বাংলাদেশের দিকে। তাই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৩ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্যরা।

গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মামলার সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পরে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তির জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর। এরপর স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন পাল্টা বক্তব্য দেন। সব বিবেচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।

এটি জুলাই গণহত্যা নিয়ে প্রথম রায় হতে যাচ্ছে।

মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রসিকিউশন তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিলেও তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ খালাস প্রার্থনা করেছেন। রায়েই জানা যাবে তার পরিণতি।

৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়; প্রথম সাক্ষী ছিলেন খোকন চন্দ্র বর্মণ, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিভীষিকার বিবরণ তুলে ধরেন। ৮ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হয়। ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো—তোলা হয়েছে তিন আসামির বিরুদ্ধে। আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মধ্যে দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি এবং দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা শহীদদের তালিকা। গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।