ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ প্রাথমিকভাবে ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগে মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করবে। তালিকায় নবীন ও অভিজ্ঞ নারী নেত্রীদের সমন্বয় রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেত্রী, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যমে পরিচিত মুখ রয়েছেন।
তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম:
- অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল
- ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ছাত্রসংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান
- ড. ফেরদৌস আরা বকুল
- প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ
- ডা. আমিনা বেগম
- শাহানারা বেগম
- বেগম রোকেয়া আনসার
- এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী
- খোন্দকার আয়েশা বেগম
- ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী
- সাঈদা রুম্মান
- জান্নাতুল কারীম
জামায়াত সূত্র জানায়, চূড়ান্ত মনোনয়নের সময় তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। ২০০১ ও ১৯৯৬ সালের মতো অতীতেও সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির প্রতিনিধি ছিলেন।
অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, “তালিকায় নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী ফোরামের মাধ্যমে হবে, প্রয়োজন হলে তালিকার বাইরে থেকেও কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীতে জামায়াতের নারী নেত্রীদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির নারী শাখা সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষভাবে ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ড. ফেরদৌস আরা বকুল, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ ও এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নীর নাম আলোচনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব, পেশাগত যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, “স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি, বুদ্ধিমত্তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বক্তব্য উপস্থাপনার সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”



