মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বাড়ায় জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থানের পথে রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৫ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছায়। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের ওপরে অবস্থান করার পর স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তার মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় বাজারে নতুন করে ক্রয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলেছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের নন-ফার্ম পে-রোলস (এনএফপি) প্রতিবেদনের দিকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
ম্যাট সিম্পসনের মতে, এনএফপি প্রতিবেদন যাই হোক না কেন, প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের স্তরটি স্বর্ণের জন্য শক্তিশালী সমর্থন হিসেবে কাজ করছে। তার ধারণা, সাময়িক দরপতন হলেও বিনিয়োগকারীদের ক্রয় আগ্রহ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান মেরেক্স জানিয়েছে, আগস্টে স্বর্ণের বাজার নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আগের তুলনায় আরও ইতিবাচক হয়েছে। তবে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামা হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। শুক্রবার স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৫৫ দশমিক ৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।



