যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে একই ধরনের উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এবার নতুন আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর বাবা-মা দুজনই অ-নাগরিক হলে এবং তাদের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা, প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছেন অথবা এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনে নাগরিকত্ব স্বীকৃত নয়—তাহলে ওই শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধা পাবে না।
হোয়াইট হাউসে আদেশে স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প বলেন, এই পরিবর্তন অনেক আগেই করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে আগের আইনি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।
অন্য একটি নির্বাহী আদেশে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অনেক বিদেশি নাগরিক সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন।
হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি–বিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, এই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুরা পরে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারে।
তবে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে বিভিন্ন গবেষণার তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প কয়েক লাখ শিশুর কথা বললেও ইমিগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ২২ থেকে ২৬ হাজার।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্যে আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। তবে আইনি চ্যালেঞ্জের পর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের কিছু ক্ষমতা থাকলেও সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।



