জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের প্রস্তাব বিএনপি দিলেও দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এতে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে এবং রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলটি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আপনারা বলেন—সার্বভৌমত্ব জনগণের, দেশটির মালিক জনগণ। কিন্তু বাস্তবে জনগণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ দুটি ভোট দিয়েছে—একটি জাতীয় সংসদের জন্য, অন্যটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। অথচ এখন সেই মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। ৫১ শতাংশের কথা বলা হলেও ৬৮ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার বলছে সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে আগেও গণভোট হয়েছে। তখন তা গ্রহণযোগ্য হলে এখন কেন নয়? জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস, তাদের অভিপ্রায়ই চূড়ান্ত।”
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাইক চালকেরা অভিযোগ করছেন—আগে ৭-৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারলেও এখন তেলের অভাবে ৩ ঘণ্টাও চালাতে পারছেন না। জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে। অথচ সরকার বলছে তেলের কোনো সংকট নেই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “যে জনগণ অতীতে খালি হাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করে পরিবর্তন এনেছে, তারা এখনো সচেতন ও সক্রিয়। বিশেষ করে যুব সমাজকে বলব, নিজেদের শক্তি ও চেতনা আরও দৃঢ় করো। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করা হবে।”



