tanaka

চ্যানেল আইয়ের পর্দায় আজ থেকে ‘স্পেলিং স্টার ২০২৬’

দেশজুড়ে কয়েক ধাপের বাছাইপর্ব শেষ করে এবার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে ‘শাহীন শিক্ষা পরিবার-চ্যানেল আই স্পেলিং স্টার ২০২৬’-এর মূল প্রতিযোগিতা। আজ শুক্রবার থেকে চ্যানেল...
প্রচ্ছদসারাদেশজঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিনের শতকোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রি, সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা...

জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিনের শতকোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রি, সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. ইয়াসিনের নামে থাকা ৬৫টি জমির দলিল মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন সীতাকুণ্ডের সাবরেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। এসব জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড করে বিক্রির অভিযোগের মধ্যে এত বিপুল সম্পত্তির দলিল দ্রুত নিবন্ধন নিয়ে চট্টগ্রামজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে এসব জমির দলিল নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেন সাবরেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। অভিযোগটি সামনে আসার পর তার বদলির আদেশ সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নিবন্ধিত দলিলগুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এক দিনে এতগুলো দলিল কীভাবে সম্পন্ন হলো, জমিগুলোর প্রকৃত পরিমাণ কত, কার কাছে সেগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এসব সম্পত্তির সঙ্গে সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি জমিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্যও নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রির সময় দলিলদাতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু পুলিশের নথিতে পলাতক আসামি হিসেবে থাকা ইয়াসিন দলিল নিবন্ধনের সময় সীতাকুণ্ড সাবরেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের বিপুল পরিমাণ সরকারি খাসজমি বিভিন্ন কৌশলে নিজের নামে বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ড করিয়ে নিয়েছিলেন ইয়াসিন। গত তিন মাস ধরে এসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছিল। এরই মধ্যে গত সোমবার সীতাকুণ্ডের সাবরেজিস্ট্রার রায়হান হাবীবকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে সেখানে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগের দিনই বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইয়াসিনের মালিকানাধীন এসব জমির বিক্রয় দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বুধবার বিকেলে আইন মন্ত্রণালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে রায়হান হাবীবের বদলির আদেশ সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে সীতাকুণ্ড সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে রায়হান হাবীবের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহকারী সিরাজউদ্দিন দাবি করেন, নিবন্ধিত জমিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পত্তি ইয়াসিনের নামে নামজারি করা ছিল এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিল জমা দিয়ে জমিগুলো বিক্রির আবেদন করা হয়েছিল। নথিপত্রে কোনো সমস্যা না থাকায় সেগুলো নিবন্ধন করা হয়েছে। এসব জমির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো বিশেষ নির্দেশনা ছিল না।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, ঘটনাটি আইন মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে জঙ্গল সলিমপুর

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াসিন বাহিনী ও রুকন মেম্বারের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অনেকটা জিম্মি অবস্থায় দিন কাটান। এ দুটি বাহিনীর পাশাপাশি তাদের অধীনে আরও কয়েকটি উপ-বাহিনীও এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি এক আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালাতে কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করে তৎকালীন র‌্যাবের একটি দল। পরে মাইকিং করে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়দের একটি অংশ র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় র‌্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ইয়াসিন ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর গত ২৪ মে গভীর রাতে দুই থেকে তিনশ সন্ত্রাসী সড়ক কেটে দেয়। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন র‌্যাব ও যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায় তারা। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যদের রাতভর গোলাগুলি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। পরে ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

তবে র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ইয়াসিন এখনো গ্রেপ্তার হননি।