শরীরের অন্যান্য অঙ্গের যত্ন নিলেও চোখের স্বাস্থ্যের দিকে অনেকেই যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অথচ চোখের কিছু রোগ শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে সমস্যা বুঝতে না বুঝতেই তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
চোখের বিশেষ করে রেটিনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা তাই গুরুত্বপূর্ণ। কোচির গিরিধর আই ইনস্টিটিউটের ভিট্রিও-রেটিনা বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহেশ চোখের স্বাস্থ্য ও রেটিনা পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
রেটিনার রোগ কেন নীরবে বাড়ে?
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা এএমডির মতো কিছু রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ নাও তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত রোগী বিষয়টি বুঝতে পারেন না।
অন্যদিকে বয়স বাড়ার সঙ্গে এএমডির মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এ ধরনের সমস্যা চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার অপেক্ষা না করে চোখের অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে—
-
হঠাৎ নতুন কালো বা ভাসমান দাগ দেখা
-
চোখের সামনে আলোর ঝলকানি দেখা
-
দৃষ্টিতে বিকৃতি বা পরিবর্তন অনুভব করা
-
চোখের সামনে ছায়া বা পর্দার মতো অন্ধকার নেমে আসা
এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কারা নিয়মিত রেটিনা পরীক্ষা করাবেন?
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা: দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ডায়াবেটিসের কারণে রেটিনায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখ ও রেটিনা পরীক্ষা করা উচিত।
বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন চোখের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়?
সাধারণ চোখের পরীক্ষায় মূলত দৃষ্টিশক্তির মান যাচাই করা হয়। রেটিনার বিস্তারিত অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শে ডাইলেটেড আই এক্সাম, ফান্ডাস ফটোগ্রাফি বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য বিশেষায়িত পরীক্ষা করা হতে পারে।
চোখ ভালো রাখতে সচেতনতা জরুরি
চোখের রোগ সবসময় স্পষ্ট উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় না। তাই শুধু দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা ভালো।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, বয়সজনিত ঝুঁকি বা চোখে হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বেশি থাকে।



