tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকচীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ৪৫ হাজার কোটি রুপির রেল প্রকল্প হাতে...

চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ৪৫ হাজার কোটি রুপির রেল প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ভারত

চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন কৌশলগত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপি (প্রায় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে বৃহৎ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে আগামী দুই বছরে ভারতের পরিকল্পিত মোট রেলওয়ে বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ ব্যয় করা হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেসামরিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও দ্রুত সেনা মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে এমন রেল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক—উভয় ধরনের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

প্রকল্পের আওতায় পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, আসাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যমান রেলপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই বছরে ভারতের মোট রেল অবকাঠামো ব্যয়ের প্রায় ২২ শতাংশই সীমান্তভিত্তিক এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি শুধু সামরিক প্রয়োজনেই নয়, দীর্ঘদিন অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। উন্নত রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এসব এলাকার সঙ্গে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে সড়কনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমে পরিবহন সক্ষমতাও বাড়বে।

বিশেষ করে চীন সীমান্তবর্তী দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই পরিকল্পনাকে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়াদিল্লি এসব এলাকায় সড়ক, টানেল, সেতু এবং অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।

প্রস্তাবিত এই ৪৫ হাজার কোটি রুপির কর্মসূচির আওতায় চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্তজুড়ে রেল অবকাঠামো উন্নয়নের এই উদ্যোগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ভারতের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সীমান্তে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে ভারত।

এ ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন বাস্তবতাও সীমান্ত অবকাঠামো জোরদারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিমালয় অঞ্চল, শিলিগুড়ি করিডর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সব ধরনের আবহাওয়ায় চলাচল উপযোগী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে পাকিস্তান সীমান্তে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তসংলগ্ন ডোকলাম এলাকার কাছে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। গত বছর কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করতে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতুও উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন অচল থাকা কয়েকটি অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড পুনরায় চালু করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে হেলিকপ্টার ও সামরিক বিমানের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের রেল খাতে মূলধনি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, স্টেশন আধুনিকায়ন, রেলপথ সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। সীমান্তকেন্দ্রিক নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি।