শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার পরিবেশের নানা সমস্যা এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সজুড়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে সড়কে নেমে শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই হাজার স্কুলে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন।
তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ফ্রান্সে চলমান পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ শিক্ষা নয়; বরং মুসলিমরা দেশটি দখলের চেষ্টা করছে। ব্যাপক হারে অভিবাসীদের ফ্রান্সে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা ব্যাপক ও নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের ফল। তার ভাষায়, এটি কোনো স্কুলের বিষয় নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ও নয়; বরং এটি ইসলামের বিষয়, যা একসময়কার ‘গ্রেট’ দেশ ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।
এর আগে গত আগস্টেও আসন্ন মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে মিশিগানের প্রাইমারি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের প্রসঙ্গেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য ক্রমেই বাড়ছে। তাদের মতে, এসব মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি হলো—শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত শিক্ষকদের সংকট দূর করা এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্লাস চলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং দুপুরের খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলো পরিদর্শন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এবং শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনা থেকে সরকারকে সরে আসার দাবিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
সূত্র: রয়টার্স



