উৎসব কিংবা বিশেষ আয়োজনে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা সামলানো কঠিন। কিন্তু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা ওজন নিয়ে সচেতন ব্যক্তিদের অনেক সময় প্রিয় খাবার থেকেও দূরে থাকতে হয়। তবে প্রচলিত রেসিপিতে কিছু পরিবর্তন এনে তুলনামূলক কম চিনি ও অল্প তেলে গুলাব জামুন তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ছানার সঙ্গে ব্যবহার করা যায় রাঙাআলু, ওটস ও কাঠবাদামের গুঁড়া। চিনির পরিবর্তে মিষ্টি স্বাদের জন্য নেওয়া যেতে পারে মঙ্কফ্রুট সুইটনার।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক ভিন্ন স্বাদের এই গুলাব জামুন তৈরির পদ্ধতি।
যেসব উপকরণ লাগবে
১০০ গ্রাম ছানার সঙ্গে নিতে হবে অর্ধেকটা ভাপানো রাঙাআলু, ৬৫ গ্রাম ওটসের গুঁড়া, কাঠবাদামের গুঁড়া এবং সামান্য এলাচের গুঁড়া। রস তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে পানি, কয়েকটি এলাচ, জাফরান ও মঙ্কফ্রুট সুইটনার। ভাজার জন্য লাগবে অল্প তেল।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে ছানা তৈরি করে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে নিন। অন্যদিকে রাঙাআলু ভাপে সেদ্ধ করে ঠান্ডা করে নিন। এরপর একটি পাত্রে ছানা নিয়ে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ভালোভাবে মথে নিন। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোনো দলা না থাকে। একইভাবে সেদ্ধ রাঙাআলুও মেখে ছানার সঙ্গে মিশিয়ে নিন।
এবার মিশ্রণে ওটসের গুঁড়া, কাঠবাদামের গুঁড়া ও এলাচের গুঁড়া যোগ করুন। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মেখে মসৃণ ডো তৈরি করুন। এরপর ছোট ছোট অংশ নিয়ে গোল আকৃতির গুলাব জামুন বানিয়ে নিন।
প্রচলিত পদ্ধতিতে তেলে ডুবিয়ে ভাজার পরিবর্তে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আপ্পে তৈরির বিশেষ লোহার প্যানেও অল্প তেল দিয়ে মিষ্টিগুলো উল্টেপাল্টে ভেজে নিতে পারেন।
এবার তৈরি করতে হবে মিষ্টির রস। একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে দুই থেকে তিনটি এলাচ দিয়ে দিন। এরপর চুলার আঁচ বন্ধ করে মঙ্কফ্রুট সুইটনার ও সামান্য জাফরান মিশিয়ে নিন। তৈরি করা রসে ভাজা গুলাব জামুনগুলো ডুবিয়ে রাখুন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা রসে ভিজিয়ে রাখলে মিষ্টিগুলো নরম হয়ে যাবে এবং রসের স্বাদও ভালোভাবে শুষে নেবে।
এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে ছানা, রাঙাআলু ও ওটস দিয়ে তৈরি ভিন্ন স্বাদের গুলাব জামুন।
ডায়াবেটিস থাকলে যা মনে রাখা জরুরি
চিনির পরিবর্তে মঙ্কফ্রুট সুইটনার ব্যবহার করলেই এই মিষ্টি রক্তে শর্করার মাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। কারণ রাঙাআলু ও ওটসেও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। কতটুকু খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজের খাদ্যতালিকা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।



