tanaka

মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভাগের একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় বিমানটি...
প্রচ্ছদচিত্রবিচিত্রগৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দম্পতি কারাগারে

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দম্পতি কারাগারে

খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে এক পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল অভিযুক্ত দম্পতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন সঞ্জয় কুমার সাহা ও তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। তার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। বর্তমানে তিনি মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন ওই কিশোরী। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরীর ওপর ক্ষিপ্ত হন এএসআই সঞ্জয়ের স্ত্রী পরি রানী সাহা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কিশোরীকে মারধর করেন এবং গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায় এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে থানা হেফাজতে নেয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, বুধবার বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় পাশের ভবনে নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে পান তিনি। পরে তিনি দূর থেকে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, রান্নার তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বুধবার থেকে অভিযুক্ত দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। পরে তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।”