চীনের সম্ভাব্য সামরিক চাপ মোকাবিলায় তাইওয়ান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে দ্বীপটি। স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে বিপুলসংখ্যক ড্রোন মোতায়েন করে সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করাই এ কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে। প্রচলিত যুদ্ধজাহাজ বা বড় সামরিক প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এসব ড্রোন তৈরি ও মোতায়েনের ব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে। এআই ও ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হবে—এমন ধারণার ওপরই কৌশলটি গড়ে উঠছে।
এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলেও ড্রোনগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। অর্থাৎ, কোনো সংঘাতে প্রচলিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনগুলোকে সীমিত পরিসরে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য চীনের সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা নয়। বরং সম্ভাব্য হামলার গতি কমিয়ে সময় তৈরি করা এবং তাইওয়ানের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই ‘হেলস্কেপ’ ধারণার অন্যতম ভিত্তি। এই কৌশলের মাধ্যমে চীনা বাহিনীকে বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের মুখে ফেলার লক্ষ্য রয়েছে বলে এর সমর্থকেরা মনে করেন।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে তাইওয়ানের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা, আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহে সম্ভাব্য দীর্ঘসূত্রতা—সবকিছুই তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশটির অভ্যন্তরেও ড্রোন উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, অর্থায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি ড্রোন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধবিমান—থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে কি না, তা নিয়েও সামরিক মহলে বিতর্ক রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনও এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকারের অগ্রাধিকার বদলে গেলে ড্রোনভিত্তিক প্রতিরক্ষা কর্মসূচির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কতটা অব্যাহত থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তবু ‘হেলস্কেপ’ ধারণার মূল বার্তা স্পষ্ট—তাইওয়ানের লক্ষ্য কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে সহজে জয় নিশ্চিত করা নয়; বরং এমন প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা, যাতে চীনের জন্য তাইওয়ানে সামরিক অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।



