tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়গুলশান-বনানী-বারিধারার ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে

গুলশান-বনানী-বারিধারার ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে

  • গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনের ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য লেকে ফেলছে
  • ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য লাইনের অধিকাংশ অকেজো
  • দুর্গন্ধে গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনের লেকপাড়ে হাঁটা দায়

‘একসময় লেকপাড়ের বাসা বা বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি ছিল, ভাড়াটিয়াদের কাছেও ছিল বিশেষ চাহিদা। লেকের খোলামেলা পরিবেশ ও দক্ষিণমুখী বাতাস সবাই উপভোগ করতেন। এখন আর কেউ বাসার জানালা দিয়ে লেকের দিকে তাকান না। জানালা খুললেই দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে লেকপাড়ের বাসাবাড়ির চাহিদা।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজধানী তথা দেশের প্রধান অভিজাত এলাকাখ্যাত গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের মধ্যে একটি এলাকার একজন বাসিন্দা। এসব এলাকার অনেক বাসিন্দার কথাও প্রায় একই রকম। তাদের বক্তব্যের সারকথা ‘আভিজাত্য হারিয়েছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা’।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন এসব এলাকায়ই অবস্থিত। অথচ এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই চারটি এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নেই। পয়ঃবর্জ্য সরাসরি গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকে ফেলছেন বাড়ির মালিকরা। ফলে লেকের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

এখন পরিস্থিতি এমন, উৎকট গন্ধে লেকগুলোর দুই পাশে গড়ে ওঠা অভিজাত ভবনের টেরেস (খোলা জায়গা) ও বারান্দায় কেউ বসতে চান না। দুর্গন্ধের কারণে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখেন লেকপাড়ের ভবনের বাসিন্দারা।

এদিকে গুলশান, বনানী, বাড়িধারার লেকের ওই দূষণ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরও ভোগাচ্ছে। বিশেষ করে বাড্ডা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, মহাখালী এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। লেকের আশপাশের ফুটপাতে চলার পথেও নাক চেপে হাঁটেন পথচারীরা।

এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লেকের পানির ওই দূষণের দায় অভিজাত এলাকার বাড়ির মালিক ও ঢাকা ওয়াসার। তাদের গাফিলতির কারণে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন বিপর্যয় ঘটেছে। অভিজাত এলাকা আজ ‘অভিজাত দুর্গন্ধে’ রূপ নিয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সামাল দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ভবনে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে, এগুলো চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।যদিও ২০২৩ সালে বনানী, বারিধারা, নিকেতন এবং গুলশান পূর্ব ও পশ্চিমের বাসাবাড়িতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জরিপ করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ওই জরিপে ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ি পর্যবেক্ষণ করেন ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা। তখন জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছিল, ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টি বাড়ির পয়ঃবর্জ্যই সরাসরি উন্মুক্ত নালা, খাল কিংবা লেকে ফেলা হচ্ছে। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নালায় মিশছে।জরিপে এমন ফলাফল পাওয়ার পর লেকপাড়ের বেশকিছু বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগে কলাগাছ ঢুকিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। যদিও যেসব বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের লাইনে কলাগাছ ঢোকানো হয়েছিল মেয়রের নির্দেশে, তা এখন আর নেই। অভিযানের পরপরই সব কলাগাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগের মতোই পয়ঃবর্জ্য পড়ছে পানি নিষ্কাশনের নালায়। সেই পানি গড়িয়ে চলে যাচ্ছে লেকে।