tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদরাজনীতিগভীর ষড়যন্ত্রের মধ্যেও হাল ছাড়েন নি তারেক রহমান

গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্যেও হাল ছাড়েন নি তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। তার লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রামের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তার নেতৃত্বে বিএনপি এখন দেশের গণতন্ত্রে উত্তরণের সীমানায় পৌঁছেছে। দলের মূল লক্ষ্য বর্তমানে আগামী জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতি, পরবর্তী সরকার গঠন এবং গণঅভ্যুত্থানের কৌশল বিএনপির কর্মকাণ্ড তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, আগামী নির্বাচনে তিনি মাঠে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন। এদিকে সোমবার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর লন্ডন থেকে দেশে আসবেন তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৮২টি মামলা করা হয়েছিল, যার মধ্যে পাঁচটি মামলায় দণ্ডিত হন। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামল থেকে মুক্ত হন তিনি।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। পরবর্তী বছর ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তার নেতৃত্বে বিএনপি পরিচালনা শুরু হয়। সেদিন থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মূল নেতৃত্বে আসেন এবং লন্ডন থেকে স্থায়ী কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দলের কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৮ সালে অংশগ্রহণ করলেও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। দলের অভিযোগ, নির্বাচনে ভোটপদ্ধতি ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বিএনপিকে মাঠে দাঁড়াতে দেয়নি। এরপরও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমান কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন এবং তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করেন। নেতাকর্মীদের সাথে একযোগে আন্দোলনে অংশ নেন, যদিও সরকারের দমন-পীড়ন ও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দলের কৌশল নির্ধারণও তারেক রহমানই করেন। নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে, বিশেষ করে ছাত্রনেতাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিয়ে আন্দোলন কার্যকর করেন। ৫ আগস্টের পর দলীয় শৃঙ্খলা ও ইমেজ রক্ষায় তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার নির্দেশে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও হয়েছে।

তারেক রহমান মনে করেন, আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জপূর্ণ হবে। মানুষের পাশে থেকে তাদের আস্থা জেতা এবং বিএনপির ৩১ দফার প্রচারণা চালানো গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় নেতা-কর্মীরা দেশব্যাপী এই প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া, নির্বাচন জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশে তিনবার গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে। প্রতিবার জিয়া পরিবার—কখনো বাবা, কখনো মা, কখনো ছেলে—গণতন্ত্র উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানেও তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র উত্তরণের চেষ্টা চলমান, যা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”