tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়গণপতি পরিবার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

গণপতি পরিবার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টায় শাহবাগে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং ঢাকায় অবস্থানরত রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা শুধু স্বজনদের নয়, পুরো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব বা চাপের কারণে যেন প্রকৃত সত্য আড়ালে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন অসঙ্গতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারের সদস্য আগামী চক্রবর্তী ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে এক বান্ধবীকে বাসায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। অথচ আসামিদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল মধ্যরাতে। এই দুই তথ্যের মধ্যে থাকা অসঙ্গতি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

বক্তারা তদন্তে ফরেনসিক প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তুলেছিলেন। ওই অর্থের বর্তমান অবস্থান কী, তা তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া গণপতি ও তাঁর ছোট ছেলে প্রিয়মকে গলায় যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটির ডিএনএ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করারও দাবি জানান তাঁরা।

এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের আলামতের অমিল এবং মৃতদেহের মুখ ঝলসানোর বিষয়ে পাওয়া ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়েও গভীর তদন্তের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। পুরো পরিবারকে হত্যার পেছনে সম্পত্তি দখলের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না এবং এতে কোনো প্রভাবশালী আত্মীয় বা নিকটজন জড়িত কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি তাঁদের।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেনসহ ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতাদেরও শনাক্ত করতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ন্যায়বিচার কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি নিহতদের স্বজন ও পুরো সমাজের অধিকার। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

পরে শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মৌন মিছিলের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচি শেষ হয়।