বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল কারিগর ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবন গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলে পরিণত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল প্রধান। তার আদর্শ ধারণ করে এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি কখনো আপস করেননি বা নত হননি। তার ত্যাগ, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাই খালেদা জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক চেতনাকে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি সত্যিকারের রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং নিজের নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি। দলকে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধারণ করেছেন। তার কর্ম ও প্রেরণা দলের নেতাকর্মীদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যের ভাগ অনেকে পেলেও আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে সবাইকে তিনি পাশে পাননি। তবে এতে তিনি কখনো মনঃক্ষুণ্ন হননি। বরং সবাইকে আপন করে নিয়েছেন, তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেছেন এবং যোগ্যতা অনুযায়ী মর্যাদা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম বড় অর্জন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করা। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সুপরামর্শ দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, আমির হোসেন মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।



