দেশে ভোজ্যতেলের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। প্রতি বছর ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথ অনুসন্ধান চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলার লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। যাতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
এ দেশে প্রধানত চার ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহৃত হয়—সরিষা, ধানের কুঁড়া (রাইস ব্রান), সয়াবিন ও সূর্যমুখী। এর সবগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। যার অংশ হিসেবে খুলনাঞ্চলের পতিত জমিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চাষ করা হচ্ছে সূর্যমুখী।
কৃষি বিভাগ বলছে, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট—এই চার জেলা নিয়ে গঠিত খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি লবণাক্ত। সাধারণত আমন ধান কাটার পর খরিপ–১ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে। সেসব জমিতে সুর্যমূখী চাষের বড় পরিকল্পনা করা হয়েছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে সে কার্যক্রম চলছে।
এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা লবণাক্ততা। সাধারণত ৮ ডিএস পার মিটার দলবণাক্ততা থাকলে জমিকে লবণাক্ত বলা হয়। কিন্তু সূর্যমুখী ১৫ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ফলে এ অঞ্চলের এখন সূর্যমুখী অন্যতম সম্ভাবনাময় ফসল বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।নড়াইল সদর উপজেলার তুলারাম ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম। তিনি এবার কয়েকটি জমিতে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এসব জমিতে আমন ধান কাটার পর কিছুই হতো না। পতিত থাকতো। লবণ ওঠে বলে ভাবতাম কিছু চাষ করলে শুধু খরচই বাড়বে। কিন্তু এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সূর্যমুখী করেছি। এতে বাম্পার ফলন হয়েছে, আমি অবাক।



