২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার এক অভিজাত হোটেলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক। বৈঠকে তারা জানতে চান—যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? সে সময় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছিলেন কারাগারে, আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবস্থান করছিলেন লন্ডনে। ফলে প্রশ্নটির কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি বিএনপি নেতারা।
সাত বছর পর আবারও সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে এবার আলোচনার পরিধি শুধু বিএনপিকে ঘিরে নয়; অন্য দল বা জোট ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে আসতে পারেন, কে সবচেয়ে যোগ্য—এসব নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণামতে যদি আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে এই আলোচনাগুলো আরও তীব্র আকারে প্রকাশ পাবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের আলোচনায় এগিয়ে ছিল। ফলে প্রধান আলোচ্য বিষয়ও এখন বিএনপি। সম্প্রতি এক বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি সুস্থ থাকেন এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত অবস্থায় থাকেন, তাহলে তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী। তার অনুপস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই দায়িত্ব নেবেন। এ বিষয়ে দলের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।”
দলের ভেতরের অনেকেই মনে করেন, বিএনপি যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তাহলে ক্ষমতার কাঠামো অনেকটা সৌদি আরবের ‘বাদশাহ–রাজপুত্র’ মডেলের মতো হতে পারে—খালেদা জিয়া থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর আসনে, আর তারেক রহমান থাকবেন সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক দিকের মুখ্য পরামর্শদাতা হিসেবে। তবে দলের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের বিশ্বাস, ভবিষ্যতের আধুনিক ও গতিশীল রাজনীতির নেতৃত্ব দিতে পারেন তারেক রহমানই।
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে তারা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।



