গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের পর থানায় ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। শুক্রবার ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লা (৪৫)। রফিক স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আহত দুজন হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আহিদ মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করতে শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে আহিদকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তিনি মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।
আহিদকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়িটি থামানো হয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক রাব্বি। এমন সময় ঘোড়াশালগামী একটি কাভার্ডভ্যান তাঁদের চাপা দিয়ে দ্রুত চলে যায়।
দুর্ঘটনার পর অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। অপর আহত এসআই জাবেদ ওমর গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। এসআই জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



