tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলকানে পানি ঢুকলে যে উপসর্গগুলো অবহেলা নয়, হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি

কানে পানি ঢুকলে যে উপসর্গগুলো অবহেলা নয়, হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি

গোসল কিংবা সাঁতার কাটার সময় কানে পানি ঢুকে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কানে ঢোকা পানি কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই বের হয়ে যায় বা শুকিয়ে যায়। তবে পানি আটকে থাকার পর যদি কানে ব্যথা, চুলকানি, অস্বস্তি কিংবা শুনতে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।

দীর্ঘ সময় কানের ভেতর আর্দ্রতা থাকলে বাইরের কানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি।

কানে পানি ঢুকলে কী করবেন?

কানে পানি ঢোকার পর প্রথমে মাথা আক্রান্ত কানের দিকে কাত করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। কানের বাইরের অংশ পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন। স্বাভাবিকভাবে পানি বের হওয়ার সুযোগ দেওয়াই প্রথম পদক্ষেপ।

পানি সহজে বের না হলে কানের লতি আলতোভাবে বিভিন্ন দিকে টেনে মাথা কাত করে রাখতে পারেন। এতে কানের পথ কিছুটা সোজা হতে পারে এবং পানি বের হতে সহায়তা করতে পারে।

প্রয়োজনে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেটি কানের খুব কাছে নেওয়া যাবে না। কম তাপমাত্রা ও কম গতিতে দূর থেকে ব্যবহার করতে হবে। কানের ভেতরে সরাসরি গরম বাতাস দেওয়া উচিত নয়।

এ ছাড়া জোর করে নাক বন্ধ করে শ্বাস ছাড়ার মাধ্যমে কানে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। এতে কানের পর্দার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে কানের পর্দায় ছিদ্র বা আগে থেকেই কানের কোনো সমস্যা থাকলে এ ধরনের পদ্ধতি ক্ষতিকর হতে পারে।

ইয়ারবাড দিয়ে কান খোঁচাবেন না

কানে পানি ঢোকার পর অস্বস্তি দূর করতে অনেকেই ইয়ারবাড, কাঠি, আঙুল কিংবা অন্য কোনো ধারালো বস্তু দিয়ে কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। এটি বিপজ্জনক হতে পারে।

এভাবে কান খোঁচালে কানের ভেতরের সংবেদনশীল ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারচলতি কোনো কানের ড্রপ ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে কিছু ধরনের ড্রপ ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কোন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

কানে পানি ঢোকার পর কয়েক দিন ধরে কান বন্ধ লাগা, ব্যথা, চুলকানি কিংবা অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এর পাশাপাশি কানে পুঁজ বা অন্য কোনো তরল বের হওয়া, কান ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, জ্বর কিংবা হঠাৎ শুনতে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

কানের সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা চিকিৎসা না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে তা আরও জটিল হতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজনে অটোস্কোপের মাধ্যমে কানের ভেতরের অংশ ও কানের পর্দা পরীক্ষা করতে পারেন। শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকলে অডিওমেট্রির মতো পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

সতর্কতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

কানে পানি ঢোকার পর সামান্য অস্বস্তি হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রেই পানি স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে যায়। তবে ব্যথা, চুলকানি, কান বন্ধ লাগা বা শুনতে কম পাওয়ার মতো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

নিজে থেকে কান খোঁচানো বা ওষুধ ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: আনন্দবাজার