tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদরাজনীতিকয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী

কয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “কয়দিন পর হয়তো আপনারা বলবেন, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ, মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলের উদ্যোগে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমিরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যখন এ দেশের মা-বোনদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, তখন আপনারা সেই নির্যাতনকে নির্যাতন বলতেও রাজি হননি। বরং তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আজ কোন মুখে, কোন উদ্দেশ্যে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন? রাজনৈতিক স্বার্থে সত্য বিকৃত করাই আপনাদের অভ্যাস।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্য করেছেন, তাতে সারা দেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ আড়াল করতেই এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তোলা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে সত্য আড়াল করা যাবে না।

১৯৮৬ সালের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, সে সময় জামায়াত এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। শেখ হাসিনাও বলেছিলেন, যারা যাবে তারা জাতীয় বেইমান। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেখ হাসিনা ও জামায়াত উভয়েই নির্বাচনে গেছেন। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা আপনারা ভঙ্গ করেছেন। অথচ বেগম খালেদা জিয়া সে নির্বাচনে যাননি; বরং দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, নিপীড়ন ও কারাবরণ সত্ত্বেও নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। সত্যের মুখোশ একসময় খুলে পড়েই।

রিজভী বলেন, গতকাল চট্টগ্রামে যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, তিনি নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একজন মেজর হিসেবে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সহকারী হিসেবে যিনি কাজ করেছেন, তিনিও নিজের লেখায় বারবার শ্রদ্ধার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, হঠাৎ রাজনৈতিক স্বার্থে এসব বক্তব্য দিলে মানুষ কি তা গ্রহণ করবে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার সামরিক বা পেশাগত জীবনে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। এমনকি জিয়াউর রহমান দল গঠনের সময়ও তিনি নিজেকে তার সহকারী হিসেবেই উল্লেখ করেছেন—যার প্রমাণ তার প্রকাশিত বইয়েও রয়েছে।

শবেবরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, শবেবরাত একটি পবিত্র রজনী। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হন। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবেবরাত কিংবা শবেকদর—ইসলামের প্রতিটি পবিত্র দিন ও রাত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর করুণা লাভের বার্তা দেয়।

তিনি বলেন, আজ দেশে দেশে সংঘাত, রক্তপাত ও অনাচার বাড়ছে, কারণ মানুষ আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পবিত্রতা ও শুদ্ধতার চর্চা না থাকলে সমাজে অপরাধ ও নোংরামি বাড়বেই।

রিজভীর অভিযোগ, কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করে ফায়দা লুটতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এ দেশের মুসলমানরা ইসলামকে ব্যবসার বস্তু নয়, জীবনাচরণের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে।

নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। ইসলামের প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন একজন নারী—হজরত বিবি খাদিজা (রা.)। অথচ আজ নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাজে ভাষা ব্যবহার করে পরে নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ক্ষোভ ঢাকতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু এ কৌশল কাজে আসবে না; নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলামসহ দলটির নেতাকর্মীরা।