ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গতকাল অফিস শেষে অনেকে ছুটি নিয়ে সড়ক পথে রওনা হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়া শুরু করবে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের বিশেষ ট্রেনযাত্রা শুরু হবে। এ ছাড়া নৌপথেও যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে।
রেলপথে নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবা
রেলপথে টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্ল্যাটফরমে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে ৬ লেন তৈরি করা হয়েছে। প্রথম লেন দিয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেনা যাবে, পরবর্তী চার লেনে যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করবেন, এবং ষষ্ঠ লেনটি যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে। স্টেশনের সব প্ল্যাটফরম ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রেলস্টেশনের সামনে র্যাব, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও পুলিশের কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে হুইলচেয়ার সুবিধা রয়েছে।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, “ট্রেন অপারেশনের সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সতর্ক রয়েছেন, যাতে সময়মতো যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।”
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, স্টেশনে যাত্রী প্রবেশের লিকেজ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈদের বিশেষ ট্রেনসমূহ
ঈদ উপলক্ষে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে:
- চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২: চট্টগ্রাম–চাঁদপুর–চট্টগ্রাম
- তিস্তা স্পেশাল-৩ ও ৪: ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ–ঢাকা
- শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ থেকে ৮: ভৈরববাজার/ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ
- পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০: জয়দেবপুর–পার্বতীপুর
ট্রেনগুলো বিভিন্ন সময়ে চলবে, যাত্রাপথ ও সময়সূচি নির্ধারিত।
নৌপথে নিরাপদ যাত্রা
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) থেকে ১৭–২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রবীণ ও মহিলা যাত্রীদের মালামাল বহনের জন্য বিনামূল্যে কুলি সেবা দেওয়া হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ার সুবিধা থাকবে।
নিরাপদ যাত্রার জন্য বছিলা ব্রিজ ও পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট থেকে অতিরিক্ত লঞ্চ চলাচল করবে। ঈদের আগে ও পরে ৫ দিন সদরঘাটে মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকবে।
সড়কে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া প্রতিরোধ
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানিয়েছে, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী টার্মিনালে ‘প্যাসেঞ্জার হেল্প ডেস্ক’ থাকবে। কোনো বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করা যাবে না।
সেতু ও মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সেতু বিভাগ ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু করেছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সেতু পারাপার ও গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন তদারকি করা হবে। ফিটনেসবিহীন বা লাইসেন্সবিহীন গাড়ি যাতে সড়কে না চলাচল করে তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষ যানচলাচল ব্যবস্থা
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিআরটি লেনে একমুখী যানচলাচল এবং আব্দুল্লাহপুর–আশুলিয়া রোডে ওয়ানওয়ে ব্যবস্থা চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাইপাস রোড খোলা রাখা হবে।



