tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কী, কেন তাদের নিয়ে শঙ্কায় ইইউ

ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কী, কেন তাদের নিয়ে শঙ্কায় ইইউ

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, যার প্রভাব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রতি ভেতর ও বাইরে থেকে আসা যে কোনো হুমকি মোকাবিলাই এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবি ও আলোচনা জোরালো হয়েছে, যা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ইরান দেশটিতে অবস্থানরত আরও অন্তত ১০ জন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যাদের মধ্যে একজন ইরানি সাংবাদিকও রয়েছেন। এ ছাড়া জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্নালেনা বায়েরবক এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য।

তাঁরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে বিক্ষোভ দমনের কৌশলের কথাও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, তা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাহসা আমিনি নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় মারা যান, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ২০১৯ সালেই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বিপ্লবী গার্ড কী?

ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি স্বতন্ত্র শাখা। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এই বাহিনী গঠন করা হয়। সাধারণ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করলেও বিপ্লবী গার্ড সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করে।

ইরানের প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক অভিযান এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে বিপ্লবী গার্ডের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার। পাশাপাশি তাদের ছয় লাখের বেশি রিজার্ভ সদস্য রয়েছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কার্যক্রমের তদারকিতেও বিপ্লবী গার্ডের ভূমিকা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ, হুথিসহ বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও বিপ্লবী গার্ডের গভীর প্রভাব রয়েছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে তাদের নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ।

সূত্র: আলজাজিরা