ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। দুই দেশই স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক চুক্তিতে তারা যাবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা গড়ে তুলতে কয়েকটি মুসলিম দেশকে ‘আব্রাহাম চুক্তি’-তে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। সম্ভাব্য দেশগুলোর তালিকায় সৌদি আরব, পাকিস্তান, কাতার, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কের নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকেও পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো চুক্তিতে দেশটি অংশ নেবে না। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত উল্লেখ নেই এবং দেশটি এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, ‘আব্রাহাম চুক্তি’ হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রথম এ চুক্তিতে যোগ দেয়। পরে মরক্কো ও সুদানও একই পথে এগোয়।



