tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরান যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে আজ বৈঠকে বসছে চার মুসলিম দেশ

ইরান যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে আজ বৈঠকে বসছে চার মুসলিম দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগে আজ রোববার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে চার প্রভাবশালী মুসলিম দেশ। পাকিস্তানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই চতুর্পক্ষীয় (কোয়াড্রিল্যাটারাল) বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আমন্ত্রণে ২৯ ও ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সৌদি আরবের প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. বদর আবদেল আতি অংশ নিচ্ছেন। আঞ্চলিক সংকট নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি সমন্বিত কৌশল নির্ধারণই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা—বিশেষ করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত—এই বৈঠকের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এমন একটি যৌথ অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে, যাতে বহিরাগত চাপ ছাড়াই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়। সফরকালে প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, সামরিকভাবে শক্তিশালী তুরস্ক ও মিশর এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সৌদি আরবের এই সমন্বয় বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রায় এক ঘণ্টার ওই আলোচনায় চলমান সংঘাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানি প্রেসিডেন্ট শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করলেও, কার্যকর সংলাপের জন্য পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইসরাইলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উঠেছে, যেখানে তেল আবিবসহ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে, এবং একাধিক পক্ষ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা বাড়ছে যে, চলমান এই উত্তেজনা সীমিত সংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।