ইরান ইস্যুতে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান–এর মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা হামলা-পালটা হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। জানা গেছে, সেখানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক অবস্থান করছেন, যা পরিস্থিতিকে ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাস্তব হলেও কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একতরফা সামরিক আক্রমণ যেমন নিন্দনীয়, তেমনি পালটা হামলাও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।
তিনি আরও বলেন, সহিংসতা কেবল সহিংসতাকেই জন্ম দেয়; সংলাপ ও সংযমই শান্তির একমাত্র পথ। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবজীবনের প্রশ্নে ভারতের নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঐতিহ্যগতভাবে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে—বর্তমান সংকটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–র কাছে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা সমর্থন করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই সময়ে নীরবতা ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আন্তর্জাতিক মহলেও শান্তির আহ্বান জোরদার হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় আঘাত হানতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।



