পাকিস্তান সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ ফল দিতে পারেনি। ইসলামাবাদ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ সফল হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি চললেও তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুইটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে Axios জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ বিষয়ে সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার ট্রাম্পকে ব্রিফ করার কথা রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV বলছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে অথবা যুদ্ধের আগে চূড়ান্ত চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
সেন্টকমের পরিকল্পনায় কী রয়েছে?
সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। মার্কিন বাহিনীর ধারণা, তেহরানে অবিরাম চাপ সৃষ্টি করলে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নমনীয় অবস্থানে আসতে পারে এবং পুনরায় আলোচনায় ফিরতে বাধ্য হবে।
BBC জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাকে ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চ প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি।
পরিকল্পনার আওতায় ইরানের তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে—যদিও এতে স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়া, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত করতে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক প্রস্তুতি জোরদার
যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে অঞ্চলে তিনটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
Bloomberg জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। ‘ডার্ক ঈগল’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যৎ সংঘাতে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ইরানের অবস্থান
অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং সম্ভাব্য নতুন সংঘাত মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



