tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরানে পাঠানো মার্কিন রণতরির শৌচাগার অচল, বিপাকে নৌসেনারা

ইরানে পাঠানো মার্কিন রণতরির শৌচাগার অচল, বিপাকে নৌসেনারা

ইরানের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে গত কয়েক দশকের বৃহত্তম নৌ ও বিমান শক্তি। কিন্তু এই মুহূর্তে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড-এর পাঁচ হাজার নৌসেনার জন্য আসল সমস্যা ইরান নয়, বরং জাহাজের ৬৫০টি অচল শৌচাগার।

শত্রু দমনের বদলে এখন ‘প্লাম্বিং’ দমনেই দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন সেনারা। ১৩ বিলিয়ন ডলারের এই দানবীয় রণতরি এখন আক্ষরিক অর্থেই সুয়্যারেজ বিভ্রাটে নাকাল।

গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মিশনে অংশ নিয়েছিল ইউএসএস ফোর্ড। মিশন শেষ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে তাকে পাঠানো হয়েছে ইরানের দিকে। আট মাস ধরে সমুদ্রে ভাসমান ক্রুরা রেকর্ড গড়ার পথে—কারণ তাদের ডিউটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে ১১ মাস পর্যন্ত।

অত্যাধুনিক এই রণতরির প্লাম্বিং সিস্টেম এমন যে, এক জায়গার শৌচাগার বিকল হলেই পুরো কাঠামো অচল হয়ে যায়। মূলত পাইপের ভেতরে টি-শার্ট বা দড়ি আটকে যাওয়ায় এমন নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে নৌসেনারা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক নৌসেনা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং জাহাজের শোচনীয় পরিস্থিতির কারণে ক্রুরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। অনেক তরুণ সেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই মিশন শেষ হলেই তারা নৌবাহিনী ছাড়বেন। গোপনীয়তার স্বার্থে তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ। ইউএসএস ফোর্ড পৌঁছালে ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি নিশ্চিত হবে, যা সচরাচর দেখা যায় না।