tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্য কি ইসরায়েলের আছে?

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্য কি ইসরায়েলের আছে?

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালানোর পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানোয় দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানে হামলার পর থেকেই ইসরায়েল ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। তেলআবিব ও হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজ। একই সঙ্গে হাজারো রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বারবার বাংকারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে জনসমর্থন থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড্যানিয়েল বার-তাল বলেন, ইসরায়েলি সমাজে ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে অনেকেই এই সংঘাতকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ শির হেভার মনে করেন, চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামরিক মনোভাব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

সামরিক দিক থেকে বড় প্রশ্ন হলো—ইসরায়েল কতদিন উচ্চমাত্রার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে পারবে। দেশটির তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রতিটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আলাদা প্রতিরোধী রকেট লাগে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং মজুতও সীমিত।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধরে রাখা ইসরায়েলের জন্য কঠিন হতে পারে। তার মতে, ইরান যদি ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও হামলা চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে ইসরায়েলকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে—যা বেসামরিক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার মাত্রা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও লঞ্চার সক্ষমতার ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইসরায়েলের জন্য সামরিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—তিন দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।