আশুলিয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে ছয় জন আন্দোলনকারীকে হত্যার পর লাশ পোড়ানো এবং ৪ আগস্ট একজনকে হত্যা করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার আসামি ১৬ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলাম।
সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ, যেখানে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যা করে, পুলিশের ভ্যানে তুলে তাদের লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। একজন তখনো জীবিত ছিলেন। এমন বর্বরতা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।”
গত ২১ আগস্ট মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পলাতক, আর ৮ জন কারাগারে। আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে গ্রেফতার আসামিদের।
আসামিদের মধ্যে আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক ট্রাইব্যুনালে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হতে চান বলে জানান। ট্রাইব্যুনাল তাকে দুপুর ২টার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার অন্যান্য আসামিরা হলেন:
- সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম
- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী
- ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন
- আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আবদুল মালেক
- আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে সাভারের আশুলিয়ায় আন্দোলন দমন করতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে ছয় তরুণকে হত্যা করে। পরে তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় জীবিত থাকা এক ব্যক্তিকেও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।



