tanaka

জ্বালানি-এলএনজির বাড়তি দামে চাপ, বিদ্যুৎ খাতে লোকসান ছাড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা

গ্যাস সংকট, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির কারণে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদন"আমি ভালোবাসি পুরুষকে" — কাকে ইঙ্গিত করছেন বাঁধন?

“আমি ভালোবাসি পুরুষকে” — কাকে ইঙ্গিত করছেন বাঁধন?

ঢালিউডের সাহসী কণ্ঠস্বর আজমেরী হক বাঁধন বরাবরই সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করে আলোচনায় থাকেন। কখনো সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে, আবার কখনো ব্যক্তি স্বাধীনতা বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর উপস্থিতিও কম নয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে একধরনের অবস্থান হিসেবেই দেখা হয়। অথচ এর কিছুদিন পর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, যার ফলে সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগেও পড়তে হয়েছে। তবে এসব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এবার বাঁধন নিজের জীবনের পুরুষদের নিয়ে মুখ খুললেন।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বাঁধন লেখেন, “আমার জীবনের পুরুষরা”। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার আপত্তি পুরুষদের প্রতি নয়, বরং সেই সমাজব্যবস্থার প্রতি—যা পুরুষতান্ত্রিক চিন্তায় গড়া এবং যা নারী-পুরুষ উভয়ের মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে।

“আমাকে ঘিরে একটা বড় ভুল ধারণা রয়েছে—অনেকে ভাবেন, আমি বুঝি পুরুষদের অপছন্দ করি। কিন্তু তা একেবারেই সত্য নয়। আমি যা অপছন্দ করি, তা হলো আমাদের সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সেই কাঠামোকে মেনে চলা নারী-পুরুষ উভয়ই।”

তিনি আরও বলেন, পুরুষ মানুষ হিসেবে কাউকে ঘৃণা করেন না, কিন্তু পুরুষতন্ত্রকে তিনি কখনোই মেনে নেননি, নেবেনও না।

সব অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না বলেও জানান বাঁধন। তার জীবনে এমন কিছু পুরুষও এসেছেন যারা ছিলেন হিংস্র, অমানবিক ও অসম্মানজনক। তবে তাদের প্রতিও একধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। কারণ তাদের দ্বারা তিনি যতটা বিধ্বস্ত হয়েছেন, ততটাই জেগে উঠেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়ে।

নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পুরুষদের কথা বলতে গিয়ে বাঁধন প্রথমেই উল্লেখ করেন তাঁর বাবা—যিনি তাকে নানা দিক থেকে গড়ে তুলেছেন। এরপর আসেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ—যার প্রভাব তাঁর শিল্পীজীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে।

তিনি বলেন, তাঁর দুই ভাই-ই জীবনের বড় ভরসা, যদিও চিন্তাধারায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ছোট ভাই রাশাকে তিনি শুধু ভাই নয়, বরং তার সেরা বন্ধু বলে মনে করেন, যার সঙ্গে শিশুসুলভ সরলতায় সবকিছু শেয়ার করতে পারেন। অপর ভাইটির কথাও টেনে এনে বলেন, বাবা-মা যখন পাশে ছিলেন না, তখন সেই ভাইটি ছিলেন, যা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না।

তিনি জানান, “ওরা দুজনই শরিয়তের কঠোর নিয়ম না মেনে আমার সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছে উত্তরাধিকার। যদিও আমি পছন্দ করি না যে আমাকে যেন ‘দিয়ে দেওয়া’ হয়েছে—যেন সেটা আমার ছিল না, ওদের ছিল। তবুও তারা যে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছে, তার কৃতজ্ঞতা আমার হৃদয়ে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের আইন এমন হবে, যেখানে সবাই সমানভাবে উত্তরাধিকার পাবে।

“তাই ভুল বোঝো না—আমি পুরুষকে অপছন্দ করি না। আমি অপছন্দ করি পুরুষতন্ত্রকে। আর হ্যাঁ, আমি পুরুষকে ভালোবাসি।”