tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকআবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, আশঙ্কা ভয়াবহ যুদ্ধের

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, আশঙ্কা ভয়াবহ যুদ্ধের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

অন্যদিকে, একই দিনে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। পাল্টাপাল্টি এসব সামরিক পদক্ষেপে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

বুধবার ভোরে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন কোন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। এ বিষয়ে জর্ডান সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলা

একই দিনে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের সমন্বয়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের সমর্থনে পরিচালিত অন্তত ৩০টি ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এর জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’।

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি

ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির দাবি, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে তাদের একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন এবং সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কেন জর্ডানকে লক্ষ্য করা হলো?

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের একটি অংশ মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, কিং ফয়সাল বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়া-ইরাক সীমান্তবর্তী টাওয়ার-২২ ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক বুরচু ওজচেলিকের মতে, ইরান এখনো মনে করে সামরিক প্রতিরোধের মাধ্যমেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নও তেহরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক রূপ নিতে শুরু করেছে। লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা ও অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেন ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলার দাবি করেছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্বে হওয়া সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাসও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মতে, সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলে মধ্যস্থতাকারীদের জন্য কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা