tanaka
প্রচ্ছদখেলাআইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার গিল, পঞ্চমবারের স্বীকৃতি শেফালির দ্বিতীয় জয়

আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার গিল, পঞ্চমবারের স্বীকৃতি শেফালির দ্বিতীয় জয়

আইসিসির সেপ্টেম্বর মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের পুরুষ দলের অধিনায়ক শুবমান গিল ও নারী দলের ওপেনার শেফালি ভার্মা। এর মধ্য দিয়ে পঞ্চমবারের মতো মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন গিল। অন্যদিকে, দ্বিতীয়বারের মতো এই স্বীকৃতি পেয়েছেন শেফালি।

সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন গিল। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩৩ রান। প্রথম ওয়ানডেতে ১০৮ বলে ১১০ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।

গিলের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় পায় ভারত। গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ৪০৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে গিলের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রোহিত শর্মা। ৭৫ বলে ১০১ রান করেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনের ২৫৫ রান ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়ে।

ম্যাচটিতে মাত্র ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গিল। এরপর ১১৭ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করে গড়েন আরেকটি কীর্তি। সফল রান তাড়ায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও গড়েন তিনি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৫ রানের লক্ষ্য ৪১.৪ ওভারে পেরিয়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় দলটি।

এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতলেন গিল। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বরে এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুলাইয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচবার মাসসেরা হওয়ার রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে।

অন্যদিকে, নারী বিভাগে পুরস্কারজয়ী শেফালি ভার্মাও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। এশিয়া কাপে পাঁচ ইনিংসে ২৩৬ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৬৪ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ৬৮ রান করেন এই ওপেনার। তার পারফরম্যান্সে ভর করে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে ভারত।

এরপর জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন শেফালি। তিন ইনিংসে করেন ১৮৮ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রান করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৪০ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্বর্ণপদকের ম্যাচেও ব্যাট ও বল হাতে অবদান রাখেন ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে ৪৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে দুটি উইকেট শিকার করেন তিনি। এশিয়া কাপে দুটি এবং এশিয়ান গেমসে চারটি উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শেফালি। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতে ভারত।

গিলের পঞ্চমবারের স্বীকৃতি এবং শেফালির দ্বিতীয়বার মাসসেরা হওয়ার অর্জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।