অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান এবং পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী।
সাক্ষাতের শুরুতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান অর্থমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বিজিএমইএ বোর্ড ও দেশের পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজে একজন বিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় তিনি ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচ্য বিষয়সমূহ
১. বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও প্রক্রিয়া সহজীকরণ
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা এখনো অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থসংকটে পড়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নেতৃবৃন্দ বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড়, প্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করা এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তির পরিবর্তে আবেদন জমার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
অর্থমন্ত্রী দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে দ্রুত বকেয়া অর্থ ছাড় এবং প্রক্রিয়া আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস দেন।
২. ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা
বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তফসিলি ব্যাংকগুলো অনেক সময় এনপিএল পরিস্থিতি সামাল দিতে ঋণ পুনঃতফসিল করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করে না। ফলে কারখানা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ঋণ পরিশোধও ব্যাহত হয়।
তিনি পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তাব দেন। অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
৩. ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাস
বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে ব্যবসা সহজীকরণ ও পরিচালন ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। কাস্টমস, বন্দর ও প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা বিশেষ নীতিগত সহায়তা কামনা করেন।
অর্থমন্ত্রী ব্যবসা সহজীকরণের পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান-সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতাদের নির্দেশ দেন।
বিজিএমইএ সভাপতি আশ্বস্ত করেন, শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক একটি বাস্তবসম্মত ও সুসংগঠিত প্রস্তাব দ্রুত সরকারের কাছে পেশ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতিগত সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।



