tanaka
প্রচ্ছদতথ্যপ্রযুক্তিঅবৈধ ফোন বন্ধে নতুন উদ্যোগ, ১ জানুয়ারি চালু হচ্ছে এনইআইআর

অবৈধ ফোন বন্ধে নতুন উদ্যোগ, ১ জানুয়ারি চালু হচ্ছে এনইআইআর

অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধে আবারও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এনইআইআর চালু হবে। এবার এই ব্যবস্থার সঙ্গে অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার সুবিধাও থাকছে।

এনইআইআর চালুর পর দেশে নতুন করে যেসব মোবাইল ফোন আনা হবে, সেগুলো এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। এর মাধ্যমে অবৈধভাবে তৈরি বা আমদানি করা এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার পাশাপাশি সেগুলোর বিক্রি ও ব্যবহার ঠেকানো সম্ভব হবে।

২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হ্যান্ডসেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর করতে এটি বিটিআরসির তৃতীয় প্রচেষ্টা।

এনইআইআর হলো সরকারের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ। মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এতে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করা হয়। এর ফলে অবৈধ, চোরাই কিংবা অননুমোদিত ফোন শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে।

বিটিআরসি গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুই ধাপে চালু হবে এনইআইআর

এনইআইআর দুই ধাপে চালুর পরিকল্পনা করেছে বিটিআরসি। প্রথম ধাপ শুরু হবে আগামী ১ জানুয়ারি। এই ধাপে ব্যবস্থাটির মূল নকশায় থাকা প্রায় সব সুবিধাই চালু থাকবে। তবে তখন ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা থাকবে না।

ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর আগে সরকারের অনুমোদন নেবে বিটিআরসি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে এ অনুমোদন চাওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপ কবে থেকে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর এ সুবিধা চালু করা হবে।

ডি-রেজিস্ট্রেশন চালু হলে এনইআইআরের মাধ্যমে একটি হ্যান্ডসেটের মালিকানা একজন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অন্যজনের কাছে পরিবর্তন করা যাবে। ফলে প্রতিটি মোবাইল ফোনের সঙ্গে তার বর্তমান বা সর্বশেষ মালিকের তথ্য যুক্ত থাকবে। এই সুবিধা দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্লোন ফোন বন্ধে থাকছে সীমাবদ্ধতা

তবে বিটিআরসির কমিশন সভার কার্যবিবরণীতে একটি সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা সম্ভব হবে না। অথচ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের ফোন ব্যবহারের নজির রয়েছে।

বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে যেসব হ্যান্ডসেট চালু রয়েছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি আমদানিকারকেরাও তাদের আমদানি করা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য এনইআইআরে দিতে পারবেন।

এর আওতায় আগে আমদানি করা হলেও এখনো বিক্রি হয়নি—এমন হ্যান্ডসেটের তথ্যও দেওয়া যাবে। একইভাবে বিভিন্ন গুদামে মজুত থাকা মোবাইল ফোনের তথ্যও এনইআইআরে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে কমিশনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চোরাই ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে বিটিআরসি।