ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। সারা দেশের ‘এ ক্যাটাগরি’র ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিতদের ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ লটারির আয়োজন করা হয়। নির্বাচিত সাব-রেজিস্ট্রারদের দক্ষতা, কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেশনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) শামীমা আফরোজ, সাব-রেজিস্ট্রার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমজান খান, মহাসচিব মাইকেল আবদুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
‘প্রাইজ পোস্টিংয়ে’ স্বচ্ছতা আনতেই লটারি
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কোনো না কোনো জায়গা থেকে পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকায় পদায়নকে সাধারণত সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই প্রথম ধাপে ঢাকার পদায়নের ক্ষেত্রেই লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন। এর বাইরে প্রায় ১৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ‘এ ক্যাটাগরি’র সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন ১৩১ জন। তাদের মধ্য থেকেই লটারির মাধ্যমে ঢাকার জন্য ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে।
লটারিতে নির্বাচিত ১৮ সাব-রেজিস্ট্রার
লটারির মাধ্যমে ঢাকার জন্য নির্বাচিত ১৮ জন হলেন—
১. মো. গোলাম মোর্তজা (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
২. অমায়িক বাবু (সদর, সাতক্ষীরা)
৩. ফরিদা আক্তার (চিতোষী, চাঁদপুর)
৪. অজয় কুমার সাহা (সদর, চুয়াডাঙ্গা)
৫. অমিত মঙ্গল চাকমা (সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম)
৬. মো. রাসেল মল্লিক (সদর, কুষ্টিয়া)
৭. গোবিন্দ সাহা (মনোহরদী, নরসিংদী)
৮. মো. মাসুম (নাজিরপুর, পিরোজপুর)
৯. এস এম আবু মুসা (নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
১০. নাজনিন জাহান (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)
১১. মোহাম্মদ হানিফ (দাউদকান্দি, কুমিল্লা)
১২. মনীষা রায় (পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও)
১৩. সিং মং থোয়াই (গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রাম)
১৪. রাজিব মজুমদার (গোপালপুর, টাঙ্গাইল)
১৫. আলী আজগর (সদর, মুন্সীগঞ্জ)
১৬. শর্মিলা আহমেদ শম্পা (ঘিওর, মানিকগঞ্জ)
১৭. আমিনা বেগম (সদর, যশোর)
১৮. টিনু চাকমা (ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম)
‘প্রাইজ পোস্টিং’ নিয়েও আসবে লটারি
আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকার ক্ষেত্রেই নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের যেসব জায়গাকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যেসব স্থানে দুর্নীতির শিকড় গজানোর অভিযোগ রয়েছে, সেসব জায়গায় পদায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকায় নির্বাচিত সাব-রেজিস্ট্রারদের কতদিন রাখা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার্ভিস রুল অনুযায়ী যতদিন অনুমোদন করবে এবং তারা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন তারা সেখানে থাকবেন। তবে কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে সেখানে রাখা হবে না।
অনিয়ম-দুর্নীতিতে নজরদারি
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি মনিটরিং করছে। সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের হাতে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, আমাদের দেবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’
তবে একই সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে চাঁদা বা মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে হয়রানি করতে চান না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, লটারির উদ্দেশ্য কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়; বরং কোনো ধরনের বৈষম্য না করে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পদায়ন শুরু করা। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি কমাতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



