tanaka

এনআইডি সংশোধনে কোন তথ্যের জন্য কী কাগজ লাগতে পারে

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মস্থান, বাবা-মায়ের নাম, পেশা কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন তথ্য সংশোধন...
প্রচ্ছদটপ নিউজঅন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে— হোসেন জিল্লুর রহমান

অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে— হোসেন জিল্লুর রহমান

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের কথা বললেও নিজেদের গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, সরকার সংস্কারের নামে কেবল একটি ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে এবং তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম ‘সোয়াস অ্যান্টি-করাপশন এভিডেন্স’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান ও অধ্যাপক পল্লবী রায় এক-এগারো এবং জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

বক্তব্যে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারই দেশে ‘সংস্কার’ শব্দটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সামনে এনেছিল। কিন্তু তাদের নিজেদের গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সেগুলো কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা মূলত তিনটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো— প্রশাসনে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা, তরুণদের সঠিক রাজনৈতিক ও সামাজিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থতা এবং নিজেদের প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করা।

তাঁর ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চর্চার পথে পরিচালিত করতে পারেনি। এর ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছিল, তা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস। পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকে।

হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার সময়মতো সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। শুরু থেকেই তারা তুলনামূলক নিরাপদ ও রক্ষণশীল পথ অনুসরণ করেছে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে পরিবর্তনের যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।