দীর্ঘদিন ধরে দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে ঘুষ, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) হাতে থাকা এই নিয়োগ ক্ষমতা এখন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর হাতে চলে যাবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে বর্তমানে ৫০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। খসড়া ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬’ ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই এনটিআরসিএ আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবে।
নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া
- পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের, যেখানে লিখিত বা বাছাইতে ৮০, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২, মৌখিক ৮ নম্বর থাকবে।
- পরীক্ষা ৬টি পৃথক বিষয়ে প্রার্থীর প্রশাসনিক দক্ষতা, একাডেমিক যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণ যাচাই করবে।
- ন্যূনতম উত্তীর্ণতার মান ৫০%।
- পরীক্ষার ভিত্তিতে জাতীয় একটি মেধাতালিকা প্রস্তুত হবে এবং শূন্য পদ অনুযায়ী অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের পদায়ন করা হবে।
বর্তমান অনিয়ম ও নতুন ব্যবস্থা
বর্তমানে পদে নিয়োগের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সবকিছু নির্ধারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজভেদে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গেও অনেক স্থানে প্রভাব খাটানো হয়েছে। নতুন নীতিমালায় সব নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্ণরূপে এনটিআরসিএর মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা পরিবর্তনযোগ্য নয়।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ শেষে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। লিখিত বা বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে পদায়ন হবে। প্রতিটি প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দ হিসেবে দিতে পারবেন।
শূন্য পদ ও বাস্তবতা
- দেশের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০,০০০-এর বেশি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধানের পদ শূন্য।
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ ৩,৯২০, সহকারী প্রধান ৩,৮৭০।
- স্নাতক কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮২ ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৭৬৭।
- মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩৪,১১০টি, যার মধ্যে এমপিওভুক্ত ২৭,০২৮ এবং নন-এমপিও ৭,০৮২।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, “নতুন শর্তাবলি বাস্তবায়িত হলে নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মেধাবী প্রার্থীরা পদে আসতে পারবে।”



