গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সেনা হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
টিআইবি জানতে চেয়েছে, ঠিক কোন যুক্তিতে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সাধারণ অভিযুক্তদের থেকে আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় বা পদমর্যাদার ভিত্তিতে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, যখন সাধারণ অভিযুক্তরা বেসামরিক ব্যবস্থায় কারা হেফাজতে থাকছেন, তখন সেনা কর্মকর্তাদের জন্য ‘বিশেষায়িত সাব-জেল’ ব্যবস্থার যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে এবং সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে “আইনের দৃষ্টিতে সমতা”র কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রোম স্ট্যাটিউটের ২৭ ধারা এবং নুরেমবার্গ প্রিন্সিপলের ভিত্তিতেও বলা আছে—আদালতের বিচারে কারো পদমর্যাদা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করিয়ে দেন, এমনকি জাতীয় বা সামরিক আইনে কিছু উল্লেখ থাকলেও, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।



