tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চামড়াশিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা নিতে চায় বাংলাদেশ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চামড়াশিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা নিতে চায় বাংলাদেশ

নগর ও শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং চামড়াশিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি, পরিচালন পদ্ধতি ও শিল্প অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে ইস্তাম্বুলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মন্ত্রীর এ পরিদর্শনে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

গত ৪ নভেম্বর ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য দহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় কেন্দ্রটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা নেন তিনি।

ইস্তাচ পরিচালিত কেন্দ্রটির দৈনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ৩ হাজার টন। এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট। বাংলাদেশের নগরগুলোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভাগাড়ের ওপর চাপ কমাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

একই দিন তুরস্কের তুজলায় অবস্থিত ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (আইডিওএসবি) পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। এ সময় জোনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জেলাল কোপুজ, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা এর কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অবদান সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানান।

পরিদর্শনে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, অভিন্ন অবকাঠামো ব্যবহার এবং চামড়াশিল্পে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

পরে জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে কাঁচা চামড়া থেকে প্রস্তুত চামড়া তৈরির বিভিন্ন ধাপ ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, ট্যানিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তি এবং জুতা ও অন্যান্য পণ্য তৈরির উপযোগী চামড়া উৎপাদনের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন।

এর আগে ৫ নভেম্বর শিলেতে অবস্থিত এনারগ্রম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ কেন্দ্রটিতে বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য তাপীয় প্রক্রিয়ায় শোধনের পাশাপাশি তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

ইস্তাচের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওটি) পদ্ধতিতে স্থাপনাটি পরিচালনা করছে এনারগ্রম। কেন্দ্রটির বার্ষিক শিল্পবর্জ্য শোধন সক্ষমতা ৩৩ হাজার টন এবং স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। উপযুক্ত বর্জ্য শোধন ও জ্বালানি পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি কাজে লাগানো গেলে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহেও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব।

একইভাবে চামড়াশিল্পে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়াতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।