-
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় হাত-পা হারানো ১ হাজার ১৩৪ শিশুকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, ইসরাইলের ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এসব শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় অঙ্গহারা শিশুদের অধিকাংশই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত গাজায় ২ হাজার ৩০০ অঙ্গহারা ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছেন। তবে স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন মাত্র ৫০০ জন, যা মোট সংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও কম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সনদধারী বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র আটজন। পাশাপাশি কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, সংযোজন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।
ইউরো-মেড সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও শিক্ষার সুযোগ না পেলে এসব শিশুর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও ব্যক্তিগত বঞ্চনায় রূপ নিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পরিবর্তন না করলেও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও চলাচলে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদনে ফিদা আহমেদ আল-শায়ের (৩৬) নামের এক নারীর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গোলা তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলের কাছে বিস্ফোরিত হলে শিশুটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং একটি হাত হারায়। উন্নত চিকিৎসা, একাধিক অস্ত্রোপচার ও কৃত্রিম অঙ্গের জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন হলেও সীমান্ত বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তাদের দাবি, শিশুদের অঙ্গহানি এবং পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
সংস্থাটির অভিযোগ, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
গাজার ১১৩৪ অঙ্গহারা শিশুর বিদেশে চিকিৎসায় বাধা, ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ



