tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশখুনের মামলার আসামিরা পেলেন ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ পদ!

খুনের মামলার আসামিরা পেলেন ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ পদ!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, কর্মী খুনের মামলার তিন আসামিকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ আগস্ট ইউনিয়ন বিএনপির এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি করা হয়েছে মো. ফারুক কবিরাজকে, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বরকে। অথচ তিনজনই নিজেদের দলের কর্মী হত্যা মামলার আসামি।

দুই কর্মী নিহতের ঘটনা

গত ৭ এপ্রিল চরবংশীর খাসেরহাট বাজার এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহত হন প্রবাসফেরত কর্মী মো. সাইজুদ্দিন দেওয়ান (৪৪)। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক কর্মী জসিম উদ্দিন ব্যাপারী (৩৭)।

সাইজুদ্দিন দেওয়ানের ঘটনায় তাঁর বড় ভাই ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় মো. ফারুক কবিরাজকে—যিনি এখন নতুন কমিটির সভাপতি। একই মামলায় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদের নামও রয়েছে। অন্যদিকে, জসিম উদ্দিন ব্যাপারীর ঘটনায় করা মামলায় সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি

উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘দলের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে খুনের মামলার আসামিদের দিয়েই কমিটি করতে বাধ্য হয়েছি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপিকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।’

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় পাঁচজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হত্যা মামলার আসামিদের শীর্ষ পদে রাখায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে হাঁটায় তৃণমূল কর্মীরাও অসন্তুষ্ট।

তবে নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক কবিরাজ দাবি করেন, ‘আমি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে আসামি করা হয়েছে।’ সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ একই দাবি করেন।

পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির মন্তব্য

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জে এম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘চরবংশী ইউপিতে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘দুটি খুনের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। খুব শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে। খুনের মামলা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা সম্ভব নয়, আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’