দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে দল পুনর্গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। অস্ট্রেলীয় ব্যাটারদের পারফরম্যান্সকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ছিল ২৮৮ রান। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। ফলে ১৭৬ রানের বড় পরাজয়ের পাশাপাশি ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।
এই জয়ের সুবাদে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচন, ব্যাটিং সামর্থ্য এবং অভিজ্ঞ পেসারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সিরিজ শুরুর আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়ার তুলনামূলক বয়স্ক দল এবং পেস আক্রমণের চার অভিজ্ঞ সদস্য প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আগে আগস্টে ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে নয় উইকেটে হারও দলটির দুর্বলতা সামনে এনেছিল।
তবে নিউল্যান্ডসে শেষ দিনের ব্যাটিং বিপর্যয় সমালোচনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন, ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারার বিষয়গুলো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।
টেলিভিশনে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় নিজের হতাশা প্রকাশ করে ডেভিড ওয়ার্নার বলেন, অস্ট্রেলিয়ার এমন ব্যাটিং দেশের ক্রিকেটীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনোভাবেই মানানসই নয়। তাঁর মতে, ব্যাটারদের মধ্যে লড়াই করার মানসিকতার অভাব ছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২৮৮ রান তাড়া করে ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন পারফরম্যান্সকে ক্ষমার অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুরো সিরিজে ব্যাটাররা বোলারদের যথাযথ সহযোগিতা করতে পারেননি বলে মনে করেন সাবেক এই ওপেনার।
একই ধরনের সমালোচনা করেছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহ। ২০০২ সালে নিউল্যান্ডসে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন তিনি। মার্ক ওয়াহর মতে, শেষ দিনের ব্যাটিং ছিল অপরিণত ও হতাশাজনক। শট নির্বাচন, টেকনিক কিংবা শট বাস্তবায়ন—কোনো ক্ষেত্রেই ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি।
ওপেনিং ও তিন নম্বর পজিশনে অনিশ্চয়তা
অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং বিভাগেও দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। ২০২৪ সালে ডেভিড ওয়ার্নারের অবসরের পর উসমান খাজার সঙ্গে স্থিতিশীল জুটি গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সুযোগ পাওয়া নিক ম্যাডিনসনও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি তিন নম্বরে মার্নাস লাবুশেনের ধারাবাহিক ব্যর্থতা তাঁর দলে জায়গা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তবে হতাশার মধ্যেও কয়েকজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার জন্য আশার আলো দেখিয়েছে। প্রথম টেস্টে দলে ফিরে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন ম্যাট রেনশ। তৃতীয় টেস্টে ওপেনিংয়ে নেমেও ট্রাভিস হেডের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি।
এদিকে, কেপটাউন টেস্টে ঘাড়ের চোটে স্টিভ স্মিথ ছিটকে যাওয়ায় দলে সুযোগ পান জশ ইংলিস। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য প্রমাণ করে নির্বাচকদের সামনে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছেন এই ব্যাটার।
দলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কামিন্সের
সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।
কামিন্স আরও জানান, অস্ট্রেলিয়াকে আবারও শীর্ষ অবস্থানে ফিরতে হলে বর্তমান পারফরম্যান্সের উন্নতি করতে হবে। প্রয়োজনে খেলার কৌশলে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কয়েকজন ক্রিকেটারকেও বদল করা হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ হার তাই শুধু একটি পরাজয় নয়, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল পুনর্গঠন ও ব্যাটিং লাইনআপের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



