tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থায়ন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে মাঝপথে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো এ খাতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি এবং অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা ও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তরুণদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যেন পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে বিবেচনায় প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে পৃথক বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যুবসমাজের উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে তরুণদের বিপুল সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি আয় করছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

জাতীয় যুব পুরস্কারকে যুবসমাজের অবদান স্বীকৃতির একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি।

বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও সময়োপযোগী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

পরিবেশ সংরক্ষণেও যুবসমাজের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।

যুবসমাজের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণীতে তারেক রহমান যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ আরও কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিশেষে, জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: বাসস