tanaka

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, ফের আশাবাদী ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের অবসান কীভাবে কিংবা ঠিক কত...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলমাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়, যেসব অভ্যাস বাড়িয়ে দেয় সমস্যা

মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়, যেসব অভ্যাস বাড়িয়ে দেয় সমস্যা

মাথাব্যথা হলেই অনেকে সেটিকে মাইগ্রেন ভেবে বসেন, আবার মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথাকেও সাধারণ মাথাব্যথা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু মাইগ্রেন আসলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা। এতে মাথার এক পাশে তীব্র ব্যথার পাশাপাশি বমিভাব, আলো ও শব্দে সংবেদনশীলতা এবং আরও কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একবার মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হলে তা চার ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়েই এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

মাইগ্রেনের ব্যথা যেভাবে বুঝবেন

মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মাথার এক পাশে বেশি ব্যথা অনুভূত হওয়া। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা ধুকপুক করার মতো হয়। হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম করলে ব্যথার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির আলো ও উচ্চ শব্দ সহ্য করতে অসুবিধা হয়। বমিভাব এমনকি বমিও হতে পারে।

মাইগ্রেনের চারটি পর্যায়

মাইগ্রেনের উপসর্গ সাধারণত চারটি পর্যায়ে প্রকাশ পায়। তবে সবার ক্ষেত্রে সব পর্যায়ের লক্ষণ দেখা যায় না।

১. মাথাব্যথা শুরুর আগের পর্যায়

মাথাব্যথা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন আগে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • আলো, শব্দ ও তীব্র গন্ধে অস্বস্তি।

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ঘন ঘন হাই তোলা।

  • বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা।

  • ক্ষুধা কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত তৃষ্ণা।

  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।

  • হজমের সমস্যা।

২. অরা বা স্নায়বিক পরিবর্তন

মাইগ্রেনে আক্রান্ত প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার আগে অথবা ব্যথা চলাকালে ‘অরা’ দেখা যায়। এটি মূলত সাময়িক কিছু স্নায়বিক উপসর্গ।

এ সময় চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, কালো বিন্দু, আঁকাবাঁকা রেখা কিংবা ঝাপসা দৃশ্য দেখা দিতে পারে। কারও কারও মুখ, হাত বা পায়ে ঝিনঝিন করা কিংবা অবশ অনুভূতি হয়। এমনকি কথা বলতেও সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। সাধারণত এসব লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং এক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।

৩. তীব্র মাথাব্যথার পর্যায়

এটি মাইগ্রেনের সবচেয়ে কষ্টকর ধাপ। এ সময় মাথায় তীব্র স্পন্দনশীল ব্যথা, বমিভাব, মাথা ঘোরা এবং ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। পাশাপাশি নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং আলো ও শব্দে অতিরিক্ত অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

৪. মাথাব্যথা কমার পরের পর্যায়

ব্যথা চলে গেলেও শারীরিক অস্বস্তি পুরোপুরি শেষ হয় না। পরবর্তী এক দিন পর্যন্ত ক্লান্তি, বিরক্তি, পেশিতে ব্যথা, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা এবং খাবারের প্রতি অনীহা থাকতে পারে।

মাইগ্রেন হওয়ার পেছনে কারণ কী?

মাইগ্রেনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বংশগত প্রবণতা এবং মস্তিষ্কের রাসায়নিক কার্যক্রমের পরিবর্তনকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশেষ করে সেরোটোনিন ও সিজিআরপি (CGRP) নামের রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তন স্নায়ু ও রক্তনালির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়।

পুরুষদের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সাধারণত ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মাইগ্রেন থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। এ ছাড়া বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও মৃগীরোগের মতো শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও মাইগ্রেনের সম্পর্ক রয়েছে।

যেসব অভ্যাস ও কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে পারে

দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস মাইগ্রেনের আক্রমণকে তীব্র করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ।

  • প্রতিদিন ঘুমানোর সময়ের অনিয়ম কিংবা অতিরিক্ত ঘুম।

  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খাওয়া।

  • অতিরিক্ত গরম ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন।

  • তীব্র আলো, উচ্চ শব্দ ও ঝাঁজালো গন্ধের সংস্পর্শে থাকা।

  • হরমোনের ওঠানামা, বিশেষ করে মাসিকের সময়।

  • ধূমপান এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ব্যবহার।

  • চকলেট, পুরোনো পনির, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ।

তবে মনে রাখতে হবে, সব খাবার বা পরিবেশগত কারণ প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একইভাবে মাইগ্রেন বাড়ায় না। ব্যক্তিভেদে ট্রিগার বা উদ্দীপক আলাদা হতে পারে। তাই কোন খাবার কিংবা অভ্যাসের পর মাথাব্যথা বাড়ছে, তা শনাক্ত করতে নিয়মিত খাবার ও উপসর্গের ডায়েরি রাখা যেতে পারে।

মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে করণীয়

মাইগ্রেনের স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যথার তীব্রতা এবং আক্রমণের সংখ্যা কমানো সম্ভব।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক, ট্রিপটান, সিজিআরপি নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে বোটক্স চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

ওষুধের পাশাপাশি কিছু অভ্যাস উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। যেমন—

  • মাথাব্যথার সময় অন্ধকার ও নীরব ঘরে বিশ্রাম নেওয়া।

  • কপালে ঠান্ডা পানির সেঁক দেওয়া।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করা।

  • মাথা ও ঘাড়ে হালকাভাবে মালিশ করা।

  • নিয়মিত মেডিটেশন বা শিথিলায়নের অনুশীলন করা।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।

  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে না থাকা এবং নিয়মিত খাবার গ্রহণ করা।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

মাথাব্যথা ঘন ঘন হলে, ব্যথার ধরন পরিবর্তিত হলে কিংবা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

যেমন, হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া, জ্বরের সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন আসা। এসব লক্ষণ স্ট্রোকসহ গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

তাই নিয়মিত মাথাব্যথাকে অবহেলা না করে এর কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ওয়েবএমডি (WebMD)