ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯৭ ডলার ৩৯ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতনের মুখে পড়েছে মূল্যবান এই ধাতু।
যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ, স্বর্ণে বিনিয়োগ থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদের হার বাড়লে বন্ডসহ সুদভিত্তিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫১ ডলার ২৭ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৫৮ ডলার ৮৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমে ৯৮৬ ডলার ৮ সেন্টে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাপ তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।



