বাংলাদেশে পিএইচডি ডিগ্রির মান, গ্রহণযোগ্যতা ও তা প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সংসদে নামের আগে ‘ডক্টর’ এবং নামের সঙ্গে ‘অধ্যক্ষ’ বা ‘উপাধ্যক্ষ’ পদবি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
পিএইচডি ডিগ্রির মান যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই ডিগ্রি প্রদানের যৌক্তিকতা ও মানদণ্ড মূল্যায়ন করা দরকার। অতীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রদান এবং রাজনীতিবিদদের এ ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে পিএইচডি ডিগ্রির ব্যাপক প্রচলন থাকলেও সব ডিগ্রির মান ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া পিএইচডি ডিগ্রির মান কীভাবে যাচাই করা হয়, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিজের পিএইচডি অর্জনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, তিনি মালয়েশিয়া থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন। তাঁর সনদের পেছনে থাকা হলোগ্রাম স্ক্যান করলে সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডিগ্রির তথ্য যাচাই করা যায়। বাংলাদেশেও ডিগ্রির সত্যতা যাচাইয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংসদে সদস্যদের নামের আগে ‘ডক্টর’ এবং নামের পাশে ‘অধ্যক্ষ’ বা ‘উপাধ্যক্ষ’ লেখা নিয়েও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ কোনো ব্যক্তির নাম নয়, বরং পদবির পরিচয়। এ ধরনের পদবি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান বা মর্যাদা তুলে ধরার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পিএইচডি ডিগ্রি দিচ্ছে ঠিকই, তবে সেই ডিগ্রির মান কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ডিগ্রিধারীরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করছেন কি না, তা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার মান ও ডিগ্রির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।



