নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে। তিন বছর মেয়াদি এ সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট বিরতিতে মুনাফা নেওয়া যায়। বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কিছু প্রতিষ্ঠানও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তিতে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ সীমার বেশি বিনিয়োগের জন্য হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে প্রযোজ্য মুনাফার হার কমে যেতে পারে।
যে মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কেনা যায়
এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ ও ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের এ সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ডাকঘর থেকে এটি কেনা ও নগদায়ন করা যায়।
কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন
সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এ সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ পান। এ ছাড়া নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত অনুযায়ী স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, নির্দিষ্ট কৃষি ও খামারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, অটিস্টিক ব্যক্তিদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং দুস্থ ও অনাথ শিশু ও প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্রও এতে বিনিয়োগ করতে পারে।
বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা
একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তবে প্রতিষ্ঠান, ফার্ম ও অন্যান্য নিবন্ধিত সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পৃথক বিনিয়োগসীমা নির্ধারিত রয়েছে।
মুনাফার ওপর কর ও অন্যান্য সুবিধা
এ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কেটে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্যে টিআইএনধারীদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ কর কাটার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের আগে কার্যকর করবিধি ও নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
সঞ্চয়পত্র কেনার সময় নমিনি মনোনয়ন করা যায়। ক্রেতার মৃত্যু হলে নিয়ম অনুযায়ী নমিনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন অথবা মেয়াদ পর্যন্ত মুনাফা গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হলে আগে দেওয়া অতিরিক্ত মুনাফা মূল টাকা থেকে সমন্বয় করা হতে পারে।
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান মুনাফার হার, কর, নগদায়নের নিয়ম এবং বিনিয়োগসীমা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর



