চীনে ৩৫ তলা ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও প্রাণে বেঁচে গেছেন ২৭ বছর বয়সী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার। দীর্ঘ ১৭ মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর প্রায় সুস্থ হয়ে আবারও অনলাইনে সক্রিয় হয়েছেন তিনি। ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দুঃসময়ে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওই তরুণী।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের বাসিন্দা এই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘@wananan’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ বিরতির পর গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তিনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। সেখানে নিজের শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং দুর্ঘটনা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা জানান।
২০২৫ সালের জুনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে দুর্ঘটনাবশত একটি ভবনের ৩৫ তলা থেকে নিচে পড়ে যান ওই তরুণী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটির থার্ড জিয়াংইয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কঠিন অধ্যায়। প্রায় ১৭ মাস ধরে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে এগিয়ে গিয়ে অবশেষে অনুসারীদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি।
‘মনে হচ্ছে, নতুন জীবন পেয়েছি’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরার ঘটনাকে জীবনের নতুন অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেছেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। তাঁর উপলব্ধি, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে জীবনকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা থেকে শুরু করে পুনর্বাসন পর্যন্ত যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন তিনি জীবনকে কেবল নিজের বলে মনে করেন না; বরং তাঁর বেঁচে থাকা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের সঙ্গেও এই জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
নতুন করে পাওয়া এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রত্যাবর্তনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া
দীর্ঘ বিরতির পর ওই তরুণীর ফিরে আসার খবর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ৩৫ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তাঁর বেঁচে থাকা এবং দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে প্রায় সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছেন অনেকে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরার বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার জন্যই নয়, বরং প্রতিকূলতা পেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার বার্তার কারণেও মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি



